বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রীতি-নীতির পরিবর্তন - বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলিত রীতি-নীতি - ৭ম শ্রেণি ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুসন্ধানী কাজ- ৪ সমাধান

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রীতি-নীতির পরিবর্তন-
সমাধান:

বিষয়বস্তু: বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রীতি-নীতির পরিবর্তন
অনুসন্ধানের প্রশ্ন (উদাহরণ):
আমাদের সমাজের নবান্ন রীতি-নীতি কীভাবে সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে?
উত্তর: নবান্ন উৎসব হল নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। গ্রামীণ বাংলার প্রতিটি ঘরে অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য এ নবান্ন উৎসব উদযাপন এখন আর চোখে পড়ে না।
আরব সমাজের নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রীতি-নীতি সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
উত্তর: অতীতে আরব সমাজে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সে দেশের সরকার কর্তৃক গৃহীত কিছু পদক্ষেপের কারণে নারীরা এখন বাইরে কাজ করতে পারছে। তারা গাড়ি চালাতে পারছে, ট্রেন চালাতে পারছে। এমনকি দোকানে দোকানদারীও করতে পারছে। যা পূর্বের রীতিকে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
আমাদের এলাকার পেশার পরিবর্তন হয়েছে কীভাবে?
উত্তর: প্রায় ২০/২৫ বছর পূর্বেও আমাদের এলকায় বেশিরভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত ছিলেন। কৃষিই ছিল তাদের মূল পেশা। কিন্তু বর্তমানে এসব মানুষ কৃষি বাদ দিয়ে অন্যান্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে- কৃষি উপরকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদনের পরে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তারা পেশা হিসেবে কৃষিকে ছেড়ে দিয়েছেন।
বিভিন্ন সময়ে আমাদের রাষ্ট্রের পরিবর্তন হয়েছে কীভাবে?
উত্তর: আজ থেকে একশ বছর পূর্বেও আমরা বৃটিশ সরকার শাষিত এক রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে ছিলাম। অনেক সংগ্রামের পর ভার-পাকিস্তান নামক আলাদা দুটি রাষ্ট্র হল। কিন্তু পাকিস্তান দুটি আলাদা প্রদেশে পৃথক ছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করত। এর ফলে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষে আমরা বাংলাদেশ নামে নতুন একটি রাষ্ট্র পেয়েছি।
বিভিন্ন সময়ে আমাদের সমাজে পরিবারের কাঠামোতে কী ধরনের পরির্তন এসেছে?
উত্তর: অতীতে বাংলায় যৌথ পরিবার কাঠামো বিদ্যমান ছিল। মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা- চাচী, দাদা-দাদী সবাই একত্রিত হয়ে একটি পরিবারের বসবাস করত। কিন্তু এমন যৌথ পরিবার এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। অধিকাংশরাই এখন একক পরিবার গঠনে বেশি আগ্রহী।
প্রশ্নে যে মূল বিষয়বস্তুগুলো রয়েছে:-
তথ্য উৎস: বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ইন্টারনেট, শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট (www.helptrickbd.com) এবং শ্রেণিশিক্ষক।
তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি: ইন্টারনেটে www.helptrickbd.com ওয়েবসাইট ভিজিট করব এবং পরিবারের সহায়তা নেব।
তথ্য সংগ্রহের ছক:
| দেশ | রীতি-নীতি এবং এর পরিবর্তন |
|---|---|
| ১. বাংলাদেশ | পালকি: অতীতে গ্রাম-বাংলার বিয়ের অনুষ্ঠানে পালকি চোখে পড়ত। এই পালকিতে চড়িয়েই নতুন বউকে শ্বশুড়বাড়ি নিয়ে আসা হত। পালকি ছাড়া বিয়ে কল্পনাও করা যেত না। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ প্রথা পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে কোন বিয়েতে পালকি দেখা যায় না। |
| ২. ভারত | সতীদাহ প্রথা: দু’তিনশ বছর পূর্বেও ভারতে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। এ প্রথা অনুযায়ী কোন নারীর স্বামী মারা গেলে ওই নারীকে জীবন্ত অবস্থায় স্বামীর সাথে একই চিতায় দাহ করা হত। একটা সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন এবং সমাজ সংস্কারের ফলে এই অমানবিক এবং নির্মম প্রথা বন্ধ করে দেয়া হয়। |
| ৩. সৌদি আরব | কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার প্রথা: প্রাক-ইসলামিক আরবে কন্যাশিশুকে অশুভ এবং বোঝা মনে করা হত। তাই কোন কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত ছিল। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর আগমনের পর তাঁর হস্তক্ষেপে এই নির্মম প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়। |
| ৪. যুক্তরাষ্ট্র | শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ বৈষম্য: দুইশ বছর পূর্বেও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে নীচু চোখে দেখা হত। কৃষ্ণাঙ্গদের অশুভ মনে করা হত। ফলে তাদের প্রতি অবর্ণনীয় বৈষম্য দেখান হত। বর্তমানে শ্বেতাঙ্গদের পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গরাও সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। |
তথ্য বিশ্লেষণ:
ওপরে ছকে উল্লেখিত তথ্যগুলো আমি পত্র-পত্রিকা, ইন্টারনেট, helptrickbd ওয়েবসাইট এবং শ্রেণিশিক্ষকের সহায়তায় সংগ্রহ করেছি। তথ্যগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে আমি তা একত্রিত করেছি। এ তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অতীতে বিভিন্ন রীতি-নীতি প্রচলিত ছিল— যা বর্তমানে নেই। এসব রীতি-নীতির অধিকাংশই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। যা সমাজ সংস্কারের ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করে।
ফলাফল বা সিদ্ধান্ত:
উক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আমি বেশ কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। তা হল—
১. সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতি সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত হতে পারে।
২. সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন নেতিবাচক রীতি-নীতি পরিবর্তনে সমাজ সংস্কারকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৩. কিছু কিছু রীতি-নীতি মানুষের মঙ্গলের জন্যই পরিবর্তন করা হয়।
৪. কিছু কিছু রীতি-নীতি পরিবর্তনের ফলে অতীত ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়ে।
উপস্থাপন:
আসসালামু আলাইকুম, আমি ................ (খালি ঘরে নাম দিবে)। আমরা জানি যে, বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা রকম রীতি-নীতি চালু রয়েছে। আর এই রীতি-নীতি গুলো কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। যেহেতু এসব রীতি-নীতি গুলো সংস্কৃতির অংশ তাই কালে বিবর্তনের সাথে সাথে এসব রীতি গুলো ও পরিবর্তন হয়ে যায়। এই বিষয় গুলো আরো ভালোভাবে জানার জন্য আমি একটি অনুসন্ধান করি। প্রথমে আমি একটি বিষয়বস্তু নির্ধারণ করি। তারপর আমার অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশ্ন নির্ধারণ করি। পরিচিত নিকট আত্মীয়স্বজন (যারা দেশের বাহিরে থাকে) ও ইন্টারনেট এর একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট www.helptrickbd.com এর শিক্ষামূলক বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে তথ্য গুলো সংগ্রহ করি। তথ্য নেয়া শেষ হলে সেগুলো যথাযথ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। সেগুলোর সত্যতা যাচাই করার জন্য আমার বড় বোনের সাহায্য নিই। এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমি বুঝতে পারলাম পৃথিবীর প্রায় দেশে এমন রীতির প্রচলন রয়েছে বহুবছর পূর্ব থেকে। এছাড়াও আরো নানা রকম রীতির প্রচলন বিভিন্ন দেশে লক্ষণীয়। সব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করার পর পরিশেষে, আমার তথ্য গুলো পরিচিত সকল সহপাঠীদের কাছে শেয়ার করি।
সপ্তম শ্রেণির ফেইসবুক স্টাডি গ্রুপে নিচের লিংক থেকে জয়েন করে নিন। সেখানে আমি প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ের সমাধান ও ছকসমূহ পূরণ করে দিয়ে দিব। আর আপনাদের বিভিন্ন সমস্যা ও বাড়ির কাজ গুলো সেখানে পোষ্ট করবেন। আমি সেগুলো দেখব এবং ভুল থাকলে কারেকশন করে দিব।ফেইসবুক স্টাডি গ্রুপ লিংক: Click Here
অনুসন্ধানী কাজ- ৪ পুরো সমাধানটির পিডিএফ প্রিভিউ নিচ থেকে দেখে নিন।



2 comments